যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে শুল্ক নিয়ে বিরোধে সাময়িক বিরতি চলমান থাকায় সম্প্রতি বাণিজ্য উত্তেজনা কিছুটা কমে এসেছে। তবে চীনে ইস্পাত উৎপাদন সক্ষমতা সীমিত হয়ে আসায় আকরিক লোহার দাম কমার সম্ভাবনা অনেক বেশি। এমনকি আগামী এক দশকে তা টানা নিম্নমুখী থাকতে পারে বলে মনে করছে গবেষণা সংস্থা বিএমআই (ফিচ সলিউশনের একটি ইউনিট)। সংস্থাটির সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এমন পূর্বাভাস উঠে আসে। খবর মাইনিং উইকলি।
বিএমআইয়ের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছর আকরিক লোহার গড় দাম হতে পারে টনপ্রতি ১০০ ডলার। তবে নিম্নমুখী চাহিদা ও অন্যান্য নেতিবাচক প্রভাবের কারণে সামনের দিনগুলোয় পণ্যটির বাজারদর ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে। ২০৩৪ সালে দাম কমে নেমে যাবে টনপ্রতি ৭৮ ডলারে।
সংস্থাটির গবেষকদের মতামত অনুযায়ী, চীনের অর্থনীতি শিল্প খাত থেকে সরে সেবা খাতনির্ভর হয়ে উঠছে। ফলে দেশটিতে ইস্পাতসহ অন্যান্য ধাতবপণ্যের চাহিদা দিন দিন কমছে। আকরিক লোহা ইস্পাত উৎপাদনের প্রধান উপাদান হওয়ায় সামনের দিনগুলোয় চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে কমতে পারে, যার প্রভাব পড়বে দামে।
আবহাওয়ার কারণে সরবরাহ বিঘ্ন ও চীনে চাহিদা বৃদ্ধির সম্ভাবনায় চলতি বছরের শুরুর দিকে দামে কিছুটা স্থিতিশীলতা দেখা গিয়েছিল। বিএমআই জানিয়েছে, গত ৬ মে কিংডাও বন্দরে ৬২ শতাংশ লোহাসমৃদ্ধ আকরিক লোহার দাম ছিল টনপ্রতি প্রায় ৯৪ ডলার ৭০ সেন্ট। ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত গড় দাম টনে ৯৬ ডলার ৫০ সেন্ট।
প্রতিবেদনে বিএমআইয়ের গবেষকরা বলেন, ‘অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ার আশঙ্কা, চীনে ইস্পাত উৎপাদন হ্রাস ও আবাসন খাতে দীর্ঘস্থায়ী মন্দা এ উপাদানগুলো মূলত বাজারে নেতিবাচক মনোভাব তৈরি করাসহ দামে প্রভাব ফেলেছে। তবে চীন যদি আর্থিক প্রণোদনার নতুন ঘোষণা দেয় অথবা যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য আলোচনা শুরু হয়, তাহলে আকরিক লোহার দামের পতন কিছুটা ঠেকানো সম্ভব।’
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের মতে, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে চীনে অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন কমেছে দশমিক ৬ শতাংশ। এ সময় দেশটিতে আকরিক লোহা আমদানি ৫ দশমিক ৫ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ৩৮ কোটি ৮০ লাখ টনে। একই প্রান্তিকে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। যদিও এ সময় ভারত ও ব্রাজিল উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে।
বিএমআইয়ের ধারণা, চীনে আকরিক লোহার বার্ষিক চাহিদা চলতি দশকের মধ্যেই সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছবে, তারপর ধীরে ধীরে কমবে। এশিয়ার অন্যান্য দেশে এ সময় চাহিদা কিছুটা বাড়লেও প্রবৃদ্ধির গতি হবে ধীর।